Peer pressure এক অদ্ভুত প্রকৃতির প্রেসার। পৃথিবীতে high pressure ,low pressure এর নাম শুনেছেন কিন্তু Peer pressure এর নাম হয়ত কখনো শুনেননি। কিন্তু আমার ধারনা এটা কোন কোন সময় হাই এবং লো প্রেসারের চাইতেও বিপজ্জনক।
"C’mon. Everyone’s doing it." So why shouldn’t you?
আরে আয়,সবাই করছে সমস্যা কি? আরে এভাবে ক্ষ্যাত মার্কা আচরন করছিস কেন?
মুসলিম মাত্রই জানেন, এটি হল সেই আয়াত, যেটি মানবজাতির পরিপূর্ণ হিদায়াতের উদ্দ্যেশ্য নাযিল হওয়া অহীসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম নাযিলকৃত। এটি আল কুরআনের সর্বপ্রথম আগত আয়াত। এটা মোটামুটি সবাই জানলেও এর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা রাখেন খুব কমই। এই আয়াতের গুরুত্ব আমরা যত দ্রুত অনুধাবন করতে পারবো, তত জলদি আমাদের মুক্তি।
মানুষ যা দেখে সাধারনত সে সবকিছুকে সেভাবেই চিন্তা করে।এমনকি মানুষকে যে জিনিসের অস্তিত্ব নেই সে জিনিসের কথা চিন্তা করতে বা আঁকতে দিলে সে এমন কিছু জিনিসের সাথে চিন্তা করে নেয় যা সে দেখেছে।মানুষের চিন্তা তার দর্শনের বাইরে প্রশস্ত হয়না।কাউকে যদি ভূতের বা রাক্ষসের চিত্র আঁকতে বলা হয়, সে মানুষ বা তার দেখা কোন পশুর আকৃতিতে আঁকা শুরু করবে। তার শিং থাকতে পারে (আমরা অনেক শিংওয়ালা পশু দেখেছি),তার ভয়ংকর দাঁত থাকতে পারে(যেমন সিংহ কিংবা বাঘের দাঁত),তার গায়ে সজারুর মত কাঁটা থাকতে পারে।
"দাওয়াত" ইসলামের একটা অন্যতম প্রধান কাজ।পুরো কোরাআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ মানুষকে দাওয়াতী কাজে উৎসাহিত করেছেন।আল্লাহ মানুষকে উত্তমভাবে দাওয়াত দেয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।আল্লাহ কোরাআনে বলেন-
আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উপদেশ শুনিয়ে উত্তমরূপে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দ যুক্ত পন্থায়।সুরা নাহল-১২৫
ইসলামকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন সব মতবাদ ও ধর্মের বিরুদ্ধে বিজয়ী করার জন্য।সকল মতবাদের উপর নিজের শ্রেষ্টত্ব প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।তাই আলহামদুলিল্লাহ ইসলাম ফসলের মাঠ থেকে সংসদ,স্কুল থেকে অফিস আদালত,পারিবারিক জীবন থেকে যুদ্ধের ময়দান সবজায়গার পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাধান দেয়।
তাই একজন মানুষ নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে, খোলা মন নিয়ে যদি ধর্মের গবেষনা শুরু করে তাহলে সে ইসলামের সাথে অন্যান্য ধর্মের মৌলিক পার্থক্য দেখতে পাবে এবং ইসলামের শ্রেষ্টত্ব উপলব্ধি করতে পারবে।তাই আসুন আমরা মানুষকে ইসলামের সোন্দর্য দেখিয়ে আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পালনে সতেষ্ট হই।
নাস্তিকদের প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ কুরআনে সুরা হাজ্জের ৪৭ নং আয়াত, সূরা সাজদার ৫নং আয়াতে বলছেন আল্লাহর একদিন আমাদের গননার ১০০০ বছরের সমান। অপরদিকে সূরা মারিজের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে মানুষের গননার ৫০,০০০ বছরের সমান।কোরানে কেন এ অসামঞ্জস্যতা?আল্লাহ কি ভুলে যান নাকি তিনি অংক বুঝেননা?
দুটো আয়াতের দিকে যদি আপনি সাধারন দৃষ্টিতে স্বল্প জ্ঞান নিয়ে মিশনারী আর তাদের কাছ থেকে নকলকারী নাস্তিকমুক্তমনাদের শেখানো চিন্তায় চিন্তা করেন তাহলে আপনার নিকট বিষয়টা আসলে অসামঞ্জস্য (contradictory) মনে হলেও জ্ঞানী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্ররই মূল ব্যাপারটি উপলদ্ধি করতে পারবেন। যাদের কুরআনের ভাষা,তাফসীর সম্পর্কে স্পষ্ঠ জ্ঞান আছে তারা এসকল অপপ্রচার দেখে ঠোঁটের কোনায় অবজ্ঞাসূচক মৃদু হাসি দিতে বাধ্য হবেন। আমি পূর্ববর্তী ইসলামী গবেষক, আলেমদের গবেষনা হতে বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করব।
যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মানসিকতার আমদের মধ্যে তৈরি হবে না,যতদিন পর্যন্ত মানসিক দাসবৃত্তি আমাদের মধ্যে থেকে চলে যাবে না,যতদিন পর্যন্ত মুসলিম হওয়ার গৌরব ও সম্মান আমাদের মনমানসিকতায় স্থান দখল না করবে ততদিন মুসলিম জাতি এ পৃথিবীর নেতৃত্ব দেয়া থেকে যোজন যোজন দূরে থাকবে।
যে আরবজাতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে মদ,জুয়া,সুদ ঢুকেছিল সে আরবজাতির মধ্যে কি বৈপ্লবিক পরিবর্তন মুহাম্মদ (সঃ) কোরআনের মাধ্যমে নিয়ে এসেছিলেন তা ইতিহাস পাঠমাত্রই আমাদের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।মদ হারাম হওয়ার আয়াত নাজিলের সাথে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় মদের বন্যা বয়ে গিয়েছিল।যাদের মুখের কাছেই মদের গ্লাস ছিল সে গ্লাসও তারা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।কেবলা পরিবর্তনের আয়াত শোনার সাথে সাথে নামাযের মধ্যেই কেবলার পরিবর্তন করার মাধ্যমে জানান দিয়েছিল আল্লাহর আদেশের প্রতি,রাসুল (সঃ) এর নির্দেশের প্রতি মুসলিমদের কেমন মনোভাব পোষন করা উচিত।
বাংলা সিনেমায় হঠাৎ করেই নায়িকারা শর্ট ড্রেস পড়া শুরু করেনি।আপনি যদি ষাটের ও সত্তরের দশকের সিনেমাগুলো দেখেন তাহলে দেখবেন সেখানে তারা শাড়ি পড়ে তুলনামুলক শালীনতার সাথে অভিনয় করছে ।আস্তে আস্তে পোশাক ছোট করার মহড়া করতে করতে আজকের এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।মানুষ হঠাৎ করে পরিবর্তন মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়।আস্তে আস্তে মানুষের মানুষের মন মগজে জিনিসটা বদ্ধমূল হওয়ার জন্য আস্তে আস্তে এগুতো হবে।মুলত এটাই হচ্ছে সঠিক কাজগুলোর কর্মপন্থা।আবার শয়্তানও ঠিক একই প্রসেসেই এগিয়ে যায়।কোরানে সেজন্য বলা হয়েছে-
শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।সুরা বাকারা-২০৮